Buy Order আর Sell Order এর বিস্তারিত

ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে বা এক্সচেঞ্জ এ দুই ভাবে কয়েন ট্রেড করা যায়। প্রথমত, সরাসরি বা মার্কেট প্রাইসে এবং দ্বিতীয়ত অর্ডার প্লেস করে। এই পোষ্টে আমরা Buy এবং Sell Order প্লেস করা এবং এর গুরুত্বসহ এই সংক্রান্ত সকল গুরুত্বপূর্ন জিনিস নিয়ে আলোচনা করব। এখানে মার্কেট প্রাইসে Buy-Sell করা নিয়ে আলোচনা করা হবে না। মার্কেট প্রাইসে বা রেটে Buy-Sell সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের Market Rate এ কি Buy-Sell উচিত? এই পোষ্টটি পড়ুন।

Buy এবং Sell Order কি?

কোন কয়েন কেনার জন্য যে অর্ডার প্লেস করা হয় তা হল Buy Order আর কোন কয়েন বিক্রি করতে যে অর্ডার প্লেস করা হয় তা হল Sell Order. এই অর্ডার তখনই প্লেস করা হয় যদি কোন কয়েনের রেট স্বাভাবিকের তুলনায় কম বা বেশি থাকে। এইভাবে অর্ডার প্লেস করা হলে মার্কেটের দাম অর্ডার এর দামের সমান হলে তখন অর্ডার Fill (পাস বা বাই-সেল ) হয়।

Base Market এবং Base Currency

Buy-Sell Order সম্পর্কে ভালোভাবে ধারনা পেতে হলে সবার আগে বেসমার্কেট এবং বেসকারেন্সি সম্পর্কে ধারনা নিতে হবে। বেস-কারেন্সি কি? বেস-কারেন্সি বলতে যে কয়েনের বিপরীতে অনেকগুলো কয়েন বাই-সেল করা হয় তাকে বুঝানো হয়। যেমন মনে করা যাক, আমরা বাংলাদেশী টাকা দিয়ে স্বর্ন বা রূপা বা লোহা কিনি। এইক্ষেত্রে স্বর্ন-রুপা বা লোহার দাম টাকার উপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়। তাই বাংলাদেশী টাকা এই ক্ষেত্রে বেস কারেন্সি। কারেন্সি মার্কেটের ক্ষেত্রে BTC দিয়ে LTC, ETH, DOGE ইত্যাদি কয়েন কেনা যায়। তাই এই ক্ষেত্রে BTC হল বেস কারেন্সি।

তাহলে বেস-মার্কেট কি? বেস-মার্কেট হল যেখানে কোন একটি কারেন্সিকে বেস করে তার বিপরীতে অনেকগুলো কারেন্সি কেনাবেচা করা যায়। অপরভাবে বলা যায় যে বেস কারেন্সি এর বিপরীতে যত কয়েন আছে তাদের লিষ্টই হল বেস-মার্কেট। প্রতি এক্সচেঞ্জ এ সাধারনত ৪-৫ টির বেশি বেস-মার্কেট থাকে। প্রতি বেস-মার্কেটে একটি নির্দিষ্ট বেস কয়েনের বিপরীতে অন্য কয়েন গুলোর দাম হিসাব করা হয়।

কোন একটি কয়েন কেনা বেচা করতে হলে এই বেস কারেন্সির উপর ভিত্তি করেই দাম হিসাব করতে হয় এবং সেই অনুযায়ী মার্কেটে বাই বা সেল অর্ডার প্লেস করতে হয়। বেস কারেন্সি এর ব্যাপারে ভালো ধারনা না থাকলে বাই আর সেল অর্ডার প্লেস করতে গেলে ভুল হতে পারে তাই সবার আগে বেস কারেন্সি এর দাম এর ব্যাপারে ভালমত ধারনা নিয়ে তারপর অর্ডার প্লেস করতে হবে। বিশেষ করে মাল্টি-বেসমার্কেট ট্রেড করতে গেলে এমন ভুল বেশি হয়ে থাকে। এবার একটি উদাহরনের মাধ্যমে বাই-সেল অর্ডার এর ব্যাপারে বিস্তারিত ধারনা নেওয়া যাক।

মনে করি আমাদের কাছে কিছু USD আছে। আমরা সেই USD দিয়ে BTC কিনতে চাই। তাই আমাদের USD বেস মার্কেটে গিয়ে BTC-USD পেয়ার খুজে বের করতে হবে। তারপর যেহেতু আমাদের কাছে USD আছে আর আমরা BTC কিনব তাই আমাদের একটা Buy Order প্লেস করতে হবে।কারন আমরা BTC কিনতে চাচ্ছি। আমরা অর্ডার প্লেস করলে মার্কেটে BTC এর দাম আমাদের অর্ডার এর দাম এর সমান হলে আমাদের কাছে BTC বিক্রি হবে এবং আমাদের USD, BTC তে পরিনত হবে।

আবার ধরা যাক আমাদের কাছে কিছু BTC আছে যা আমরা সেল করে USD বানাতে চাই। তাহলে আমাদের Sell Order প্লেস করতে হবে। তাহলে মার্কেটে BTC এর দাম আমাদের অর্ডার এর দামের সমান হলে আমাদের BTC বিক্রি হবে এবং আমাদের অ্যাকাউন্ট এ USD জমা হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা বিক্রি করার সময় আমাদের বর্তমান Buy Order এর দাম এর উপর ভিত্তি করে আমাদের সেল অর্ডার প্লেস করতে হবে। আর আমরা কেনার সময় আমাদের বর্তমান সেল অর্ডার এর দামের উপর ভিত্তি করে বাই অর্ডার প্লেস করতে হবে।

উপরের ছবিতে ১ চিহ্নিত অংশটি হল সেল অর্ডার। সেল অর্ডার এর অংশ সব সময় লাল রঙের হয়। ২ চিহ্নিত অংশটি হল বাই অর্ডার। বাই অর্ডার সবসময় সবুজ রঙের হয়। এই বাই আর সেল অর্ডার হল অন্য ইউজারেরা কোন দামে কয়েন কিনতেসে বা বিক্রি করতেসে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে, সবচেয়ে কম 0.00000028 BTC রেটে AEM coin সেল করা হচ্ছে আর সবচেয়ে বেশি 0.00000022 BTC রেটে AEM coin বাই করা হচ্ছে।

এখন আমরা মনে করি আমাদের হিসাবে AEM কয়েনের দাম 0.00000028 BTC অনেক বেশি আছে বর্তমানে আমাদের হিসাবে এর দাম 0.00000015 BTC হওয়া উচিত। তাই আমরা 0.00000015 BTC রেটে একটি বাই অর্ডার প্লেস করব নিচের ছবির মত করে।


এখানে ১ লেখা বক্সে Quantity বা পরিমান দিতে হবে মানে আমরা কতগুলা কিনতে চাচ্ছি তা ওই ঘরে লিখতে হবে। ২ নং বক্সে কত রেটে আমরা কিনতে চাচ্ছি তা দিতে হবে। আমাদের হিসাবে দাম হওয়া দরকার 0.00000015 BTC তাই আমরা Price এর ঘর (২ নং বক্স) এ 0.00000015 লিখেছি। আর ৩ নং বক্সে আমাদের মোট কত BTC লাগবে অর্ডার প্লেস করতে তা দেখাচ্ছে।

Buy এ ক্লিক করার পর আমাদের 0.00000015 রেটে একটা অর্ডার প্লেস হয়েছে যা উপরে ছবিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি। যখন মার্কেটে দাম কমে 0.00000015 এর সমান বা তার চেয়েও কম হবে তখন আমাদের অর্ডার Fill হবে বা আমাদের কয়েন কেনা হবে।

Sell Order ও একইভাবে বর্তমান দাম দেখে তারপর প্লেস করতে হবে।

মনেকরি আমাদের কাছে 55 SDGO কয়েন আছে যা আমরা বিক্রি করতে চাচ্ছি কিন্তু আমাদের মনে হল মার্কেটের বর্তমান দাম অনেক কম। বর্তমান দাম 0.00000000002 BTC কিন্তু আমাদের হিসাবে দাম হওয়া উচিত 0.00000000010 BTC. তাই আমাদের সেল অর্ডার প্লেস করতে হবে।

ঠিক বাই অর্ডার প্লেস করার মত করেই আমাদের পছন্দের রেট দিয়ে আমরা একটি সেল অর্ডার প্লেস করেছি। ফলে মার্কেটে কয়েনের দাম বেড়ে যখন 0.00000000010 BTC তে যাবে তখন আমাদের কয়েন বিক্রি হয়ে আমাদের অ্যাকাউন্ট এ BTC জমা হবে।

কিছু লক্ষ্যনীয় বিষয়ঃ

সবার আগে আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা তখনই বাই বা সেল অর্ডার প্লেস করব যখন আমাদের হিসাবে মার্কেটে কয়েনের দাম আমাদের হিসাবের তুলনায় কম বা বেশি আছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রফিট করার জন্য মার্কেট রেটে কয়েন বাই বা সেল করতে হয় বিশেষ করে মাল্টি-বেসমার্কেট ট্রেডের সময়। তাই আমাদের আগেই হিসাব করে ধারনা করে নিতে হবে যে আমাদের কি মার্কেট রেটে কেনা বা বেচা উচিত নাকি অর্ডার প্লেস করে কেনা-বেচা করা উচিত। আগে থেকে ধারনা বা হিসাব না করে নিলে লাভের পরিবর্তে লস হওয়ার সম্ভবনা থাকবে তাই আগে হিসাব করে তারপর অর্ডার প্লেস করুন।

মার্কেট রেটে কয়েন বেচা-কেনা আর অর্ডার প্লেস করে বেচা-কেনার মধ্যে পার্থক্য কি তা নিচে আলোচনা করা হল

মার্কেট রেটে বাই-সেলঅর্ডার প্লেস করে বাই-সেল
১. মার্কেট রেটে বাই-সেল করা বলতে আমরা সরাসরি যে দামে বাই-সেল অর্ডার প্লেস করা আছে সেই দাম এ কেনা বা বিক্রি করাকে বুঝব।১. অর্ডার প্লেস করে বাই-সেল বলতে আমরা আমাদের পছন্দ মত রেটে অর্ডার প্লেস করে কেনা বা বিক্রি করাকে বুঝব।
২. যখন দ্রুত কয়েন দরকার তখন এবং সাধারনত মাল্টি-বেসমার্কেট ট্রেডের সময় মার্কেট রেটে কয়েন কিনে বা বিক্রি করা হয়ে থাকে।২. সাধারনত প্রফিট করা জন্য মার্কেটের বর্তমান দামের চেয়ে কম বা বেশিতে বাই-সেল অর্ডার প্লেস করে কয়েন কেনা বা বিক্রি করা হয় যাতে পরবর্তিতে প্রফিট করা সম্ভব হয়।
.৩. ডে-ট্রেডার বা রেগুলার ট্রেডাররা সাধারনত মার্কেট রেটে কয়েন কম বাই-সেল করে।৩. ডে-ট্রেডার বা রেগুলার ট্রেডাররা সাধারনত অর্ডার প্লেস করে কয়েন বাই-সেল করে যাতে কয়েন কেনার বা বিক্রির পরে প্রফিট করার মত অপশন থাকে।
৪. মার্কেট রেটে সরাসরি কিনে সাধারনত প্রফিট করা কষ্টকর। অনেক সময় সম্ভব হয় না বরং লস হওয়ার সম্ভবনা থাকে।.৪. বাই-সেল অর্ডার প্লেস করে কয়েন কেনা হলে আগে থেকে হিসাব করার কারনে প্রফিট করার মত অপশন রেখেই কয়েন কেনা হয়। ফলে লস হলেও মার্কেট রেটে কেনার তুলনায় কম লস হয়।
৫. সাধারনত এক এক্সচেঞ্জ থেকে অন্য এক্সচেঞ্জ এ কয়েন পাঠানোর সময় অথবা বড় মাপের ডাম্প হলেই শুধু মার্কেট রেটে কেনা উচিত।৫. অধিক পরিমানে ট্রেড করলে অথবা সবসময়ই অর্ডার প্লেস করে কেনা-বেচা করার অভ্যাস করা উচিত।

শেয়ার করে বন্ধুদের জানার সুযোগ করে দিন