Chart Reading – Part 1 – বেসিক ধারনা

চার্ট রিডিং কেন প্রয়োজন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আগেই আলোচনা করা হয়েছে। Chart Reading কি? ও কেন Trading এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অংশগুলোর মধ্যে একটা? পোষ্ট হতে বিস্তারিত জানতে পারবেন যদি আগে জানা না থাকে। এখানে শুধুমাত্র চার্ট রীড করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

**এখানে কোন বিশেষজ্ঞদের মত নানান স্টাইলে রিডিং করা শিখানো হবে না বরং এখানে চার্টে কোন জিনিস দিয়ে কি বুঝায় ও তার বাস্তব ব্যবহার কেমন তা নিয়ে আলোচনা করা হবে যাতে যে কেউ নিজেই কোন জিনিস দিয়ে কি বুঝায় তা জানতে পারবে এবং কারেন্সি পেয়ার ও কয়েন সম্পর্কে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

চার্ট রিডিং সম্পর্কে জানতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস সম্পর্কে আগে ধারনা নিতে হবে।

১. CandleSticks:

CandleSticks বলতে চার্টে যে লাল ও সবুজ রঙের আয়তকার বার থাকে সেগুলোকে বুঝানো হয়। এটা চার্টের অন্যতম মূল অংশ।

Candlesticks Example

এটা কয়েনের দাম বা কারেন্সি পেয়ারে কয়েনের দামের হ্রাস-বৃদ্ধি বুঝায়। উপরের ছবিতে CandleSticks এর উদাহরন দেওয়া হয়েছে। এই CandleStick সাধারনত লাল ও সবুজ রঙের হয়ে থাকে। সাধারনত সবুজ দিয়ে কারেন্সি পেয়ারে কয়েনের দাম বৃদ্ধি ও লাল দিয়ে দাম কমাকে বুঝানো হয়। বেসিক ধারনা নেওয়ার ক্ষেত্রে এত টুকু জানলেই কাজ চালানো সম্ভব।

২. Time Frame:

Time Frame হতে চার্ট কোন ধরনের সময়ের উপর ভিত্তি করে দেখানো হচ্ছে তা বুঝা যায়।

Time Frame Example

এখানে,

m – m দিয়ে মিনিট বুঝানো হয়। 1m মানে প্রতি ১ মিনিটের জন্য কয়েনের দামের আপ-ডাউন শো করে । তেমনি, 15m মানে ১৫ মিনিট, 30m মানে ৩০ মিনিট এর জন্য কয়েনের দামের আপ-ডাউন শো করে।

H – H দিয়ে ঘণ্টা বুঝানো হয়। 1H মানে প্রতি ১ ঘন্টার জন্য কয়েনের দামের আপ-ডাউন শো করে । তেমনি, 6H মানে ৬ ঘণ্টার জন্য, 12H মানে ১২ ঘণ্টা এর জন্য , 24H মানে ২৪ ঘণ্টার জন্য কয়েনের দামের আপ-ডাউন শো করে।

D – D দিয়ে দিন বুঝানো হয়। 1D মানে ১ দিনের জন্য, 3D বলতে ৩ দিনের জন্য, 7D বলতে ৭ দিনের জন্য কয়েনের দামের আপ-ডাউন শো করে।

M – M দিয়ে মাস বুঝানো হয়।

Y – Y দিয়ে বছর বুঝানো হয়।

৩. Depth:

Depth বলতে বাই ও সেল অর্ডারের পার্থক্য বা তুলনাকে বুঝানো হয়। কোন পেয়ারে কি পরিমান বা ও কি পরিমান সেল অর্ডার আছে তা এক চার্ট এ তুলোনা করলে Depth Chart পাওয়া যায়।

Depth Chart Example

কিছু কিছু ক্ষেত্রে Depth Chart অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, হাই ইন্টেন্সিটি পেয়ারের পাম্প ও ডাম্প সম্পর্কে ধারনা পেতে Depth Chart ব্যবহার করা হয়। এখানে সবুজ অংশ বাই অর্ডারে কয়েনের পরিমান ও লাল অংশে সেল অর্ডারে কয়েনের পরিমান শো করে। যদি লাল অংশ সবুজের চেয়ে বেশি থাকে তবে বুঝতে হবে যে এখানে সেল অর্ডারে কয়েনের পরিমান বেশি অর্থাৎ সেলার বেশি বায়ার কম। আবার উপরের ছবির মত সবুজ অংশ বেশি ও লাল অংশ কম হলে বুঝতে হবে বাই অর্ডার বেশি সেল অর্ডার কম। অর্থাৎ বায়ার বেশি সেলার কম।

৪. Volume:

Volume দিয়ে কি পরিমানে কয়েন বেচা কেনা হয়েছে তা বুঝা যায়। সাধারনত এই ভলিউম বেস কয়েনের উপর ভিত্তি করে শো করা হয় তবে অনেক ক্ষেত্রে মূল কয়েনের ভলিউমও শো করতে পারে।

Volume Example

যেমন উপরের চার্টে মূল কয়েনের ভলিউম শো করছে। অন্য ক্ষেত্রে সাধারনত বেস কয়েনের ভলিউম শো করতে পারে। এই ভলিউম দিয়ে কতটুকু সময়ে কতটা বাই-সেল হয়েছে তা বুঝতে পারা যায়।

এখন কিভাবে চার্ট রীড করতে হয় তা নিয়ে ধারনা দেওয়া যাক।

Chart Reading Details

উপরের ছবিতে ১৫ মিনিটের চার্ট দেখানো হয়েছে। রেগুলার ট্রেড করার জন্য ১৫ মিনিট এর চার্ট ফলো করাই ভাল। আস্তে আস্তে স্কিল বাড়লে তখন ১ ঘন্টা বা ১ দিন বা ১ সপ্তাহের চার্ট সঠিক ভাবে ব্যবহার নিজেই করতে পারবেন। এখানে শিখার জন্য ১৫ মিনিটের চার্ট ব্যবহার করা হবে।

উপরের ছবিতে ১ চিহ্নিত অংশ হল ঐ কারেন্সি পেয়ারে কয়েনের দাম শো করতেসে। ক্যান্ডেলস্টিক গুলো দাম কোন পর্যন্ত উঠেছিল ও কোন পর্যন্ত নেমেছিল তা শো করতেসে। প্রতি ক্যান্ডেলস্টিক প্রতি ১৫ মিনিটের পরিবর্তন শো করতেসে। ২ চিহ্নিত জায়গায় প্রতি ১৫ মিনিটের জন্য ভলিউম শো করতেসে। ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে প্রতি ক্যান্ডেলস্টিক এর নিচে একটা করে ভলিউম এর বার আছে। অর্থাৎ ক্যান্ডেলস্টিক যেমন প্রতি ১৫ মিনিটে দামের পরিবর্তন শো করতেসে তেমনি প্রতিটা ভলিউম বার ঐ ক্যান্ডেলস্টিক এর জন্য অর্থাৎ ঐ ১৫ মিনিটে কি পরিমানে কয়েন বাই-সেল হয়েছে তা শো করতেসে। আর ৩ চিহ্নিত জায়গায় শো করতেসে সময়। উপরের ছবিতে একই দিনের সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চার্ট শো করতেসে তা ঐ ৩ চিহ্নিত জায়গায় দেখা যাচ্ছে।

তাহলে বুঝা গেল যে কোন জিনিস দিয়ে সাধারন ভাবে কি বুঝায় চার্ট এ। এখন এই তথ্য গুলোকে কিভাবে একসাথে ব্যবহার করতে হবে তা দেখানো যাক।

Chart Reading Details 2

উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে, মাউসের পয়েন্টার কোন একটা ক্যান্ডেলস্টিক এর উপর নিলে উপরের ছবির মত তথ্য শো করে। ১ চিহ্নিত অংশ হল পয়েন্টার মার্ক। এটা দিয়ে বুঝায় কোন ক্যান্ডেলস্টিক এর উপর পয়েন্টার রাখা আছে। এই পয়েন্টার মার্ক সাধারনত ” + ” চিহ্নের মত হয়। এবং এর নিচে ঐ ক্যান্ডেলস্টিক এর দিন ও তারিখ শো করে। উপরের ছবির মার্ক করা ক্যান্ডেলস্টিক এর তারিখ ০৯ আগষ্ট ২০২১ সময় ৫টা ১৫ মিনিট তা ঐ পয়েন্টার এর নিচে শো করতেসে। ২ চিহ্নিত অংশ হল ভলিউম বার এর যা কি পরিমান বেস কয়েন বার সেল হয়েছে ঐ ১৫ মিনিটে তা শো করতেসে। এটা সাধারনত চার্ট এর উপরের অংশে ছোট করে লেখা থাকে উপরের ছবির মত। অর্থাৎ ক্যান্ডেলস্টিক সিলেক্ট করলে তার নিচের ভলিউম বারের বিস্তারিত তথ্য উপরে ছোট করে লেখা থাকবে। যেমন উপরের ছবিতে চিহ্নিত ক্যান্ডেলস্টিক এর জন্য ঐ ১৫ মিনিটে ৪৬.২৬৬$ এর ভলিউম হয়েছে অর্থাৎ ৪৬.২৬৬$ এর মোট বাই সেল হয়েছে ঐ ১৫ মিনিটে। আর ৩ চিহ্নিত অংশ ১৫ মিনিট এর স্টিকটি কত দাম এ শুরু হয়েছিলো সর্বোচ্চ কততে উঠেছিলো আর সর্বোচ্চ কত নিচে নেমেছিলো তা শো করে।

এখানে, O -O মানে Opening Rate। অর্থাৎ কত দাম দিয়ে স্টিকটি শুরু হয়েছে। H – H মানে Highest Rate। অর্থাৎ সর্বোচ্চ কত পর্যন্ত গিয়েছে। L – L মানে হল Lowest Rate. অর্থাৎ সর্বনিম্ন কততে নেমেছিল এবং C – C হল Closing Rate অর্থাৎ কত রেটে স্টিকটি শেষ হয়েছিল।

শেয়ার করে বন্ধুদের জানার সুযোগ করে দিন