Chart Reading – Part 2 – অ্যানালাইসিস

চার্ট এনালাইসিস করার জন্য সবার আগে ক্যান্ডেলষ্টিক এর এনালাইসিস করা শিখতে হবে। Candlesticks এর মাধ্যমেই কোন কয়েন পেয়ারের দামের মুভমেন্ট সম্পর্কে বুঝতে পারা যায়। তাই এই সম্পর্কে ধারনা না থাকলে এনালাইসিস করা কোন ভাবেই সম্ভব হবে না। এই সম্পর্কে Chart Reading – Part 1 আর্টিকেল এ ধারনা দেওয়া হয়েছে। Candlesticks এর পর দেখতে হয় পেয়ারের ট্রেড ভলিউম কতটা। ভলিউম এর মাধ্যমেই জানা যায় যে, কোন কয়েন কি পরিমানে বাই-সেল হচ্ছে কোন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। এই ভলিউম এর এনালাইসিস এর মাধ্যমেই ট্রেড করার মত পেয়ার খুজে বের করতে হয়।

চার্ট এনালাইসিস করার সময় অনেকেই অনেক প্যাটার্ন নিয়ে গবেষণা করে। হয়তো কখনো এইধরনের প্যাটার্ন এনালাইসিস করলে কাজ হত অথবা হয়তো শেয়ার মার্কেট বা ফরেক্স মার্কেট এ এখনো প্যাটার্ন এনালাইসিস করলে সফলতা আসে কিন্তু কারেন্সি মার্কেটে সবার আগে এই ধরনের প্যাটার্ন এনালাইসিস করা বাদ দিতে হবে। কারন ক্রিপ্টোমার্কেট অনেক ভলাটাইল অর্থাৎ খুবই দ্রুত অনেক আপ-ডাউন হয় তাই কোন প্যাটার্ন প্রেডিক্ট করা সাধারন ট্রেডারদের জন্য একপ্রকার অসম্ভব। বৃহৎ স্বার্থে হয়তো কিছু প্রেডিক্ট করা সম্ভব হতে পারে কিন্তু সূক্ষ্ম প্রেডিকশন করা সম্ভব নয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই।

একটা উদাহরন দিলে আরো ভালো ভাবে বুঝতে পারা যাবে বিষয়টা ।

মনেকরি, লাইটকয়েন এর দাম বর্তমানে ০.০০৩ BTC এর নীচে নেমে ০.০০২৫ BTC তে চলে গেল। এক্ষেত্রে প্রেডিক্ট করা সম্ভব যে কোন এক সময়, তা ৭ দিন হতে পারে, বা ১৫ দিন বা ১মাস অথবা ১ বছর পরেও হতে পারে, কোন এক সময় লাইটকয়েনের দাম বেড়ে ০.০০৩ BTC এর উপরে যাবে। তাই ০.০০২৫ BTC থাকার সময় ইনভেষ্ট করে কিনে রাখা যেতে পারে। এই ধরনের প্রেডিকশন সম্ভব। কিন্তু ০.০০২৫ থেকে উপরে উঠার সময় কোন ধরনের প্যাটার্ন ফলো করে উঠবে অথবা কবে কত হতে পারে এর দাম তা প্রেডিক্ট করা অসম্ভব। কারন বর্তমানে এক একটা কয়েনের দাম অনেক লোক একসাথে নিয়ন্ত্রন করে যার কারনে প্রেডিকশন করা সম্ভব নয়। কে নিয়ন্ত্রন করে কিভাবে করে তা অনেক বড় ব্যাপার তা নিয়ে আলোচনা করা আমাদের কাজ নয়।

অনেকেই দাবী করে যে, তাদের প্রেডিকশন সফল হয় বা হয়েছে কিন্তু তার সত্যতা কতটা তা একটা প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। একজন প্রোফেশনাল ট্রেডারকে সব সময় মনে রাখতে হবে, “সিগন্যাল আর কবিরাজ বাবার তাবিজ একই জিনিষ।”

আমরা কখনোই প্যাটার্ন প্রেডিক্ট করা অভ্যাস করব না। অন্তত যতদিন না সাধারন চার্ট দেখে বুঝার ক্ষমতা অর্জন হয় যে কয়েনটা কিনার উপযোগী কি না।

চার্ট এনালাইসিস করার জন্য একসাথে Candlesticks এবং ভলিউম ২টার সমন্বয় করতে হবে। প্রতি Candlesticks এর নিচেই ভলিউম দেওয়া থাকে। তাই কোন পর্যন্ত দামের পরিবর্তনের জন্য কি পরিমানে বাই-সেল হয়েছে ওই পেয়ারে বা কতটা ভলিউম জেনারেট হয়েছে তা জানতে পারা যায়। ফলে কয়েনের গ্রহনযোগ্যতা সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়। কয়েনের চার্ট এর টাইমফ্রেম বার বার চেঞ্জ করে নানান সময়ের জন্য এর দামের পরিবর্তন ও ভলিউম পরীক্ষা করে দেখতে হয়। ফলে ধারনা পাওয়া যায় যে কোন সময়ে কতটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল এই কয়েনের। আরো ভেঙ্গে বলতে গেলে, এই পেয়ারে মানুষ কতটা ট্রেড করেছে তা বুঝা যায়।

তাহলে এখন প্রশ্ন হল এই দুই এর সমন্বয় করে কি বুঝা যাবে?

এই Candlesticks এবং ভলিউম এর সমন্বয় হতে অনেক কিছু বুঝা যায়। সবার প্রথমে বুঝা যায় যে, কোন পেয়ারে কতটা বাই-সেল হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে ঠিক করা যায় যে, কোন পেয়ারে বাই-সেল অর্ডার প্লেস করলে তা পূরন হবে কিনা। যদি ভলিউম বেশি হয় এবং সুবিন্যস্ত হয় মানে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমানে ভলিউম থাকে তবে বুঝতে পারা যায় যে কত থেকে কত রেঞ্জের মধ্যে বাই-সেল অর্ডার প্লেস করলে তা পূরন হওয়ার সম্ভবনা আছে।

আরো ধারনা পাওয়া যায় যে কত থেকে কত দাম আপ-ডাউন হয়েছে একটা পেয়ারে। ফলে কত দাম এ কিনলে কত সময় এর মধ্যে কত দাম এ সেল করা যাবে তা বুঝতে পারা যায়।মাল্টি-বেসমার্কেটে ট্রেড করার জন্য চার্ট এনালাইসিস এর কোন বিকল্প নেই। কারন এর মাধ্যমেই জানতে পারা হয় যে এক পেয়ারে কত দাম এ কিনলে অপর পেয়ারে কত দাম এ সেল করতে হবে এবং বর্তমানে সেই দামের কম না বেশি আছে এবং বুঝা যায় যে সেই দাম এ আসতে কত সময় লাগতে পারে। এই ধারনা ছাড়া মাল্টি-বেসমার্কেট ট্রেড করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

এখন কিছু প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে উপরের আলোচনার বিষয়বস্তু আবার রিভিউ করা যাক।

Q. এনালাইসিস করা বলতে আসলে কি বুঝব?

A: চার্ট এনালাইসিস বলতে মূলত ২টা বিষয়ের এনালাইসিসকে বুঝায়। ১. ট্রেড ভলিউম ২. দামের মুভমেন্ট।

Q. ট্রেড ভলিউম এর কাজ কি?

A: ট্রেড ভলিউম ট্রেডারকে জানতে সাহায্য করে যে কোন কয়েনের কোন পেয়ারে কোন সময় কি পরিমানে কয়েন কেনা-বেচা হয়েছে। এই ভলিউম থেকেই কোন কয়েনের আরো স্পেসেফিক ভাবে বলতে গেলে কয়েনের কোন পেয়ারের গ্রহণযোগ্যতা কতটা তা জানা যায় বা তার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়। ভলিউম বেশি হলে ট্রেড বেশি হয়েছে। ট্রেড বেশি হয়েছে মানে অনেকেই এই কয়েন বাই-সেল করেছে। কারন বাই-সেল না হলে ভলিউম জেনারেট হত না। আর যেহেতু বাই-সেল বা ট্রেড হচ্ছে তাই যদি এখানে বাই বা সেল অর্ডার প্লেস করা হয় তাহলে তা ফিল আপ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

ট্রেড এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল অর্ডার প্লেস করে বাই অথবা সেল করা। তাই যদি জানা না থাকে যে বাই বা সেল অর্ডার প্লেস করলে তা ফিল আপ হওয়ার সম্ভবনা আছে কি না তাহলে ট্রেড করা সম্ভব হবে না। তাই ভলিউম থেকে তা বিচার করতে হবে।

এখানে মনে রাখতে হবে যে, অনেক সময় দেখা যায় যে কোন কয়েন এর কোন একটা পেয়ারে প্রচুর পরিমানে ট্রেড হচ্ছে কিন্তু অন্য পেয়ারে তেমন কোন ট্রেডই হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে যে সকল পেয়ারে ট্রেড ভলিউম নেই সেই সকল পেয়ারে ট্রেড করা কষ্টকর। আরো ভাল ভাবে বলতে গেলে সেসকল পেয়ারে অর্ডার ফিল আপ হওয়ার সম্ভবনা কম।

Q. কারেন্সি পেয়ার কি?

A: কারেন্সি পেয়ার সম্পর্কে আমাদের Crypto Terms পেজে আগেই ধারনা দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত আবারো এখানে আলোচনা করা হল।

কারেন্সি পেয়ার হল একজোড়া কয়েন যাদের একটিকে অপরটির বিপরীতে এক্সচেঞ্জ করা যায়। যেমন, BTC-USDT। এখানে BTC এর বিপরীতে USDT অথবা USDT এর বিপরীতে BTC কে এক্সচেঞ্জ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে একটা বেস কয়েন। এই বেস কয়েনের উপর ভিত্তি করেই কোন পেয়ারের দাম ঠিক করা হয়। যেমন, USDT বেসমার্কেটে USDT বেস কয়েন। তাই BTC এর দাম USDT এর বিপরীতে 40000 USDT বা 50000 USDT ইত্যাদি হয়ে থাকে। আবার যদি BTC বেস মার্কেটের কথা চিন্তা করা হয় তবে BTC বেস কয়েন। তখন BTC এর বিপরীতে USDT বাই-সেল হয়। তাই তখন দাম হয় 0.00002500 BTC বা 0.00002000 BTC ইত্যাদি।

একটা এক্সচেঞ্জ এ সাধারনত একাধিক বেসমার্কেট থাকে ফলে প্রতিটা কয়েনের একাধিক বেসমার্কেটে একাধিক কারেন্সি পেয়ার থাকে। যেমন ধরি, Binance এক্সচেঞ্জ এ DOGE কয়েনের একাধিক কারেন্সি পেয়ার আছে। এই DOGE কয়েন সেখানে BTC, USDT, EUR, RUB, AUD, BRL ইত্যাদি সহ আরো অনেকে কয়েনের বিপরীতে ট্রেড হয়। তাই কোন পেয়ারে ট্রেড করা সবচেয়ে বেশি লাভজনক হবে তা বুঝতে হলে চার্ট এনালাইসিস করতে হবে। প্রথমে চার্ট এনালাইসিস করে কারেন্সি পেয়ার ঠিক করতে হবে তারপর দাম এর মুভমেন্ট দেখে অর্ডার প্লেস করতে হবে।

Q. যদি একাধিক কারেন্সি পেয়ারে পর্যাপ্ত ভলিউম থাকে তাহলে কোন পেয়ারে ট্রেড করব?

A: এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যদি একাধিক পেয়ারে পর্যাপ্ত ভলিউম থাকে তবে একাধিক পেয়ারে একসাথে মাল্টি-বেসমার্কেট ট্রেড করাই ভাল। কারন যদি কোন একটি এক্সচেঞ্জ এ একাধিক পেয়ারে পর্যাপ্ত ভলিউম থাকে তবে ভালোভাবে চার্ট এনালাইসিস এবং দামের হিসাব করতে পারলে অবশ্যই মাল্টি-বেসমার্কেট ট্রেড করা সম্ভব হবে। যদি মাল্টি-বেসমার্কেট ট্রেডিং সম্পর্কে ধারনা না থাকে তবে আমাদের মাল্টি-বেসমার্কেট ট্রেডিং কি? আর্টিকেল হতে ধারনা নিতে পারেন। আর নাহলে যে সকল পেয়ারে ভলিউম আছে তাদের মধ্যে থেকে সুবিধাজনক একটা পেয়ার নিয়ে বা যে পেয়ার পছন্দ হবে সেখানে ট্রেড করতে হবে।

শেয়ার করে বন্ধুদের জানার সুযোগ করে দিন