Chart Reading – Part 3 – ডীপ অ্যানালাইসিস – ১

আগের ২টি আর্টিকেলে চার্ট এনালাইসিস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা দেওয়া হয়েছে। এখানে প্র্যাক্টিক্যালি এনালাইসিস এর মাধ্যমে চার্ট রিডিং সম্পর্কে ধারনা দেওয়া হবে। চার্ট এনালাইসিস করার মূল উদ্দেশ্য হল আমরা যাতে নিজে কারো সাহায্য ছাড়া ট্রেড করার মত কারেন্সি পেয়ার খুজে বের করতে পারি এবং সফলতার সাথে ট্রেড করে প্রফিট করতে পারি। তাহলে শুরু করা যাক।

আগেই বলা হয়েছে যে, চার্ট রিডিংকরতে হলে ২টা জিনিষ নিয়ে একসাথে কাজ করতে হয়। তা হল ট্রেড ভলিউম এবং দামের মুভমেন্ট। প্রথমে ট্রেড ভলিউম এর এনালাইসিস করে কারেন্সি পেয়ার খুজে বের করা যাক ট্রেড করার জন্য।

সবার আগে আমাদের যেকোনো একটা এক্সচেঞ্জ মনে মনে ঠিক করতে হবে যেখানে আমরা প্রতিদিন ট্রেড করব। প্রতি ট্রেডার এর কিছু নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ এর সাথে অ্যাডজাষ্টমেন্ট হয়ে যায় ট্রেড করতে করতে যেখান থেকে রেগুলার বেসিস এ প্রফিট আসতে থাকে। আমাদের এই লিষ্টে কিছু এক্সচেঞ্জ দেওয়া হল যেখানে রেগুলার ট্রেড করে প্রফিট করা সম্ভব।

ট্রেড ভলিউম এনালাইসিসঃ

মনেকরি আমরা Binance এ রেগুলার ট্রেড করব। কিন্তু সেখানে প্রতি কয়েনের প্রতি পেয়ারেই মিলিয়ন ডলার এর উপর ট্রেড হয় প্রতিদিন। তাই রেগুলার টাকা কামানোর জন্য এটা উপযুক্ত সাইট হলেও শিখার জন্য আমরা CREX ব্যবহার করব। যদি আপনার এখানে একাউন্ট না থাকে তবে এই লিঙ্ক হতে অ্যাকাউন্ট করে নিন।

মনে করি আমরা DOGE কয়েন ট্রেড করতে চাচ্ছি। তাহলে সবার আগে দেখে নেওয়া যাক এই সাইটে কতগুলো পেয়ার আছে DOGE কয়েন এর।

CREX এ Doge Pairs

উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে, এই এক্সচেঞ্জ এ ৪টা পেয়ার আছে DOGE কয়েন এর। আমরা এখানে DOGE/USDT এবং DOGE/ETH এই ২ পেয়ার এনালাইসিস করে বুঝার চেষ্টা করি কোন পেয়ার ট্রেড করার জন্য উপযুক্ত।

আমরা প্রথমে DOGE/USDT পেয়ারকে এনালাইসিস করি।

DOGE-USDT Pair Analysis

উপরের ছবিতে চার্ট এর দিকে লক্ষ করি। এখানে নিচের ভলিউম অংশ যদি আমরা দেখি তাহলে দেখতে পাচ্ছি যে প্রায় প্রতি ৩০ মিনিটে কম বেশি কিছু না কিছু ভলিউম আছে। তার মানে হল এই পেয়ারে প্রতি ৩০ মিনিটেই অল্প হোক আর বেশি হোক বাই সেল হচ্ছে। তাহলে আমরা যদি বাই বা সেল অর্ডার প্লেস করি এই পেয়ারে তাহলে আমাদের তা ফিল আপ হওয়ার সম্ভবনা আছে। নীচে আমরা চার্ট অংশটারে আবারো দেখি।

DOGE-USDT Pair Analysis 2

উপরের ছবিতে দেখলে আমরা বুঝতে পারছি যে, এটা একটা ৩০ মিনিটের চার্ট। নিচের হলুদ বক্স করা অংশে প্রতিটা বার ৩০ মিনিটের জন্য ভলিউম নির্দেশ করছে। এখানে গত ১০-১৫ দিন এ প্রতি ৩০ মিনিটেই বাই-সেল অর্থাৎ ভলিউম দেখা যাচ্ছে। তার মানে আমরা যদি এই পেয়ারে ট্রেড করি এবং সঠিক দাম নির্নয় করে অর্ডার প্লেস করতে পারি তবে আমাদের অর্ডার ফিলাপ হতে বেশি সময় লাগবে না।

ট্রেড ভলিউম থাকার আরো একটা অর্থ হল যে আমরা জরুরি কারন বশত কয়েন বিক্রি করতে চাইলে যে কোন সময় অল্প লস দিয়ে হলেও সেল করে ডলার এ কনভার্ট করতে পারব। যদি কোন পেয়ারে ভলিউম না থাকে তবে লস দিয়েও অনেক সময় সরাসরি কয়েন সেল করা যায় না অর্ডার প্লেস করে দিনের পর দিন ফেলে রাখতে হয়। তাই আমাদের সবার আগে ট্রেড ভলিউম দেখে কারেন্সি পেয়ার এর গ্রহণযোগ্যতা বিচার করতে হবে। যত বেশি ভলিউম তত বেশি ভাল পেয়ার। যত কম ভলিউম তত খারাপ পেয়ার। ভালো পেয়ার খুজে বের করে দামের হিসাব করে অর্ডার প্লেস করতে হবে আর খারাপ পেয়ার খুজে পেলে তাতে সময় আর টাকা নষ্ট করা যাবে না অর্ডার প্লেস করে ফেলে রেখে।

এখানে উল্লেখ্য যে, প্রতিটা চার্ট এর উপর মাউস রেখে স্ক্রোল বাটন দিয়ে স্ক্রোল করলে চার্ট এর আকার বড় ছোট হয়। বড় ছোট করে নিজের সুবিধা মত করে নিয়ে এনালাইসিস করতে হবে। চার্ট এর উপর ক্লিক করে বাম পাশে বা ডান পাশে টান দিলে চার্ট বামে বা ডানে মুভ করে। বাম থেকে ডানে অতীত থেকে বর্তমান শো করে। অর্থাৎ, যত বামে যাওয়া হবে তত আগের চার্ট ডাটা পাওয়া যাবে আর যত ডান দিকে যাওয়া হব তত আজকের বর্তমান সময় পর্যন্ত আসা যাবে। তাই স্ক্রোল করে বামে ডানে মুভমেন্ট করে নিজের সুবিধামত পজিশনে এনে চার্ট এনালাইসিস করতে হবে। এটা অন্য কারো পক্ষে করে দেওয়া সম্ভব হবে না কারন ট্রেড আপনি করবেন তাই আপনার যে পজিশনে চার্ট দেখলে সুবিধা মনে হবে সেই পজিশনেই দেখতে হবে।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে ১৫ মিনিট বা ৩০ মিনিট এর চার্ট দেখে ট্রেড করি। আপনি আপনার পছন্দ মত ১ মিনিট থেকে শুরু করে ১ বছর পর্যন্ত যেকোনো সময় এর উপর ভিত্তি করে হিসাব করতে পারেন। এটা আপনার নিজের উপর নির্ভর করে। আমি সাধারনত কোন একটা কয়েনের পেয়ারের ১৫ মিনিটের দামের মুভমেন্ট এর উপর বেস করে কয়েন এর অর্ডার প্লেস করি তাই ১৫ মিনিটের চার্ট ফলো করি। আপনি একটা অর্ডার ফিলাপ এর জন্য যতটা সময় বরাদ্দ করবেন সেই অনুপাতে চার্ট এর সময় ঠিক করে নিবেন।

এবার DOGE/ETH পেয়ার নিয়ে এনালাইসিস করা যাক।

DOGE-ETH Pair Analysis

উপরের ছবি দেখে বুঝা যাচ্ছে যে, এই পেয়ারের ভলিউম DOGE/USDT এর তুলনায় একেবারেই কম। তাই এই ২ পেয়ার এর মধ্যে থেকে যদি একটাকে বেছে নিতে হয় তবে আমাদের DOGE/USDT পেয়ার বেছে নিয়ে ওখানে ট্রেড করাই ভাল হবে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে নতুন ট্রেডারদের মনে, দেখে তো আমার কাছে ২ পেয়ারের ভলিউম একই মনে হচ্ছে তাহলে কিভাবে বুঝব যে কোনটার ভলিউম বেশি আর কোনটার কম? যদি এমন প্রশ্ন মনে এসে থাকে তবে এর উত্তর হল, ২ টা জিনিষ থেকে বুঝা যায় কোন পেয়ার এর ভলিউম কেমন। ১. 24H Volume এবং ২. প্রতি নির্দিষ্ট সময় এর ভলিউম।

২৪ আওয়ার ভলিউম হল গত ২৪ ঘন্টার কারেন্সি পেয়ারের ভলিউম। তা জানা যায় বেস মার্কেট লিষ্ট হতে।

Base-Market List

উপরের ছবি দেখে আমরা বুঝতে পারি যে, গত ২৪ ঘন্টায় DOGE/USDT পেয়ারের ভলিউম ছিল ০.০১৪৮ বিটকয়েন আর DOGE/ETH পেয়ারের ভলিউম ছিল শুধুমাত্র ০.০০০২ বিটকয়েন। এটা থেকেই স্পষ্ট বুঝা যায় যে বেশিরভাগ ট্রেডার DOGE/USDT পেয়ারে ট্রেড করছে তাই এখানে অর্ডার প্লেস করলে সহজে এবং তাড়াতাড়ি ফিলাপ হবে।

আর নির্দিষ্ট সময় এর ভলিউম জানা যায় প্রতিটা ক্যান্ডেলষ্টীক এর উপর মাউস ধরলে।

৩০ মিনিট ভলিউম

উপরের ছবিতে শেষ ক্যান্ডেলষ্টীক এর উপর মাউস ধরলে একেবারে উপরে ১০৯ ভলিউম শো করতেসে। তার মানে হল গত ৩০ মিনিটে মাত্র ১০৯ DOGE কয়েনের বাই-সেল হয়েছে এই পেয়ারে যা DOGE এর মত একটা কয়েনের জন্য একেবারেই কম। তাই এই পেয়ারে ট্রেড না করাই ভাল হবে।

এভাবে আলাদা আলাদা পেয়ারে গিয়ে চার্ট রীড করে দক্ষতা অর্জন করতে হবে তাহলেই একজন সফল ট্রেডার হওয়া সম্ভব হবে। এই প্রসেসে একাধিক পেয়ার থেকে যেকোনো একটি পেয়ার বেছে নিতে হয়। পরবর্তী আর্টিকেলে আমরা ২য় ভাগ অর্থাৎ চার্ট থেকে দামের মুভমেন্ট ট্র্যাক করে অর্ডার প্লেস করা শিখব।

শেয়ার করে বন্ধুদের জানার সুযোগ করে দিন